ছবিঃ সংগৃহীত
আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও মনের টানে অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন অভিনেতা সিয়াম আহমেদ। বর্তমানে পুরোদস্তুর অভিনেতা হলেও আইন পেশার সঙ্গে এখনো কিছুটা সম্পৃক্ততা রয়েছে তার। তবে অভিনয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই এই নায়কের। বরং আইন বিষয়ে অর্জিত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অভিনয়জীবনে নানা দিক থেকে কাজে লাগছে বলে মনে করেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সিয়াম বলেন, অন্য পেশার সঙ্গে সমঝোতা করেই অভিনয়ে এসেছেন তিনি। কারণ অভিনয় ছিল তার মনের ভেতরের ডাক। আইন বিষয়ে পড়াশোনা করলেও সেই পেশা ছেড়ে দেওয়ার জন্য কোনো আফসোস নেই তার। সিয়ামের ভাষায়, অর্জিত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা কখনো বিফলে যায় না। মানুষের আচরণ পর্যবেক্ষণ এবং পর্দায় বিভিন্ন চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে আইন বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান তাকে সহায়তা করে।
তবে আইন পেশা ছেড়ে অভিনয়ে আসার পর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কিছুটা অনিশ্চয়তায় ভুগতে হয়েছে তাকে। সিনেমার ভবিষ্যৎ এবং পারিবারিক দায়িত্ব নিয়ে মানসিক চাপও ছিল। এ প্রসঙ্গে সিয়াম বলেন, নিজের স্বপ্নের প্রতি সব সময় সৎ ও অবিচল ছিলেন তিনি। বস্তুগত বিলাসিতার চেয়ে নিজের সময় ও কাজ উপভোগ করাকে বেশি গুরুত্ব দেন। এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর মানসিক সমর্থন তার জীবনকে অনেক সহজ করেছে বলেও জানান এই অভিনেতা।
পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এখন সিয়ামের কাছে সবচেয়ে বেশি স্বস্তির। সন্তান হওয়ার পর তিনি আরও বেশি পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছেন। নিজের বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে সম্পর্কের গভীর আবেগ বুঝতে শিখিয়েছে। এ কারণে ভবিষ্যতে পরিবার ও শিশুদের উপযোগী সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনাও করছেন তিনি।
অভিনয় পেশা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের কিছু অসংগতি নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন সিয়াম। বিশেষ করে শুধু ঈদকে কেন্দ্র করে সিনেমা মুক্তির প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে তিনি। তার মতে, বছরজুড়ে নিয়মিত সিনেমা মুক্তির পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশের দর্শক ভালো গল্প ও মানসম্মত নির্মাণ সব সময়ই গ্রহণ করেন। তবে শুধু সিনেমা নির্মাণ করলেই হবে না, দর্শকের কাছে তা পৌঁছে দিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রচারণার জন্য আলাদা বাজেট রাখাও প্রযোজকদের দায়িত্ব।
নিজের অভিনয়জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা রয়েছে সিয়ামের। তারকাখ্যাতির পেছনে না ছুটে কাজের সততা ও অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে দর্শকের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে চান তিনি। এটাই তার ক্যারিয়ারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন এই অভিনেতা।
কাজের ক্ষেত্রে সর্বশেষ চলতি বছরের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘রাক্ষস’ সিনেমায় দেখা গেছে সিয়ামকে। মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও দর্শক ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনায় ছিল। ঈদের দিন শুধু মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি পরে দেশের প্রায় ৩০টি একক পর্দার প্রেক্ষাগৃহেও প্রদর্শিত হয়।
বর্তমানে রায়হান রাফী পরিচালিত থ্রিলার সিনেমা ‘আন্ধার’ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন সিয়াম। গত অক্টোবর সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরিচালকের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৬ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে সিনেমাটির কাজ এগিয়ে চলছে।